এসএম রাশেদ
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ‘দোহাজারী-সাংগু থানা’ ও নতুন প্রশাসনিক উপজেলা গঠনের দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, প্রস্তাবিত সেই রূপরেখা থেকে ঐতিহ্যবাহী দোহাজারী পৌরসভা ও পাহাড়ি জনবহুল ধোপাছড়ি ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এই অসম্পূর্ণ ও একপেশে প্রস্তাবের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, “দোহাজারী কারো দয়া না, আল্লাহর প্রদত্ত সবকিছুর মাধ্যমে দোহাজারীর একটি ঐতিহ্য বহন করে।” ঐতিহাসিক এই জনপদকে অবমূল্যায়ন করে কোনো সিদ্ধান্তই এলাকার মানুষ মেনে নেবে না।
দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার অংশবিশেষ নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (উপজেলা পরিষদ-১ শাখা) থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর একটি সরকারি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে সাতকানিয়ার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি পৃথক উপজেলা গঠনের স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০০৪ সালের অনুশাসন অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় বাণিজ্যিক জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ পৌরশহর দোহাজারী এবং ধোপাছড়ি ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ অব্যাহিত রেখে শুধু ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশনা আসায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে নবম জাতীয় সংসদের অধিবেশনসহ বিভিন্ন সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে ‘দোহাজারী-সাংগু থানা’ বাস্তবায়নের জন্য জোরালো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন সময়েও এই নামকরণের পক্ষে এবং এলাকার বৃহৎ উন্নয়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের পূর্ণ সম্মতি ও ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছিল। অথচ ঐতিহাসিকভাবে যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র দোহাজারী এবং বিশাল আয়তনের ধোপাছড়িকে বাদ দিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ স্তম্ভিত। গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদগুলোকে বাইরে রেখে কোনোভাবেই একটি কার্যকর বা পূর্ণাঙ্গ উপজেলা গঠিত হতে পারে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। অবিলম্বে এই হটকারী ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত সংশোধন করে দোহাজারী ও ধোপাছড়িকে অন্তর্ভুক্তপূর্বক নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।