নিজস্ব প্রতিবেদক:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক জনপদ দোহাজারীকে বাদ দিয়ে এবং এর দীর্ঘদিনের নায্য অধিকারকে উপেক্ষা করে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দোহাজারীর সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা ও সামাজিক সংগঠনগুলো। দোহাজারীকে উপজেলা ও থানা হিসেবে বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ।
গত ২ অক্টোবর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় দোহাজারীকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ও থানা করার দাবিতে এবং প্রস্তাবিত ষড়যন্ত্রমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বাসস্টেশনে একটি বিশাল মানববন্ধন আয়োজনের ঘোষণা দেয় ছাত্র-জনতা ও স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। ওই দিন সন্ধ্যায় কর্মসূচি সফল করার লক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় দোহাজারীর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে আগামী ৩ অক্টোবর (শনিবার) মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও মানববন্ধনের তীব্র প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমদের নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহল। এর ফলশ্রুতিতে, দোহাজারী নাগরিক কমিটির সভাপতি মোঃ আলী আকবর-এর নেতৃত্বে দোহাজারীর একটি প্রতিনিধি দলকে আলোচনার জন্য ঢাকায় তলব করা হয়।
গত ৩ অক্টোবর আয়োজিত দীর্ঘ বৈঠকে সংসদ সদস্য মহোদয় দোহাজারীকে মূল উপজেলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা গঠিত হবে এবং দোহাজারী পৌরসভা চন্দনাইশ উপজেলার মধ্যেই থাকবে, পাশাপাশি দোহাজারীতে কেবল একটি পৃথক থানা করা হবে। দোহাজারীকে উপজেলা থেকে বাদ দেওয়ার এমন পক্ষপাতমূলক ও একরোখা মনোভাব প্রতিনিধি দলের সামনে আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঢাকার এই বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়া এবং দোহাজারীকে এড়িয়ে যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-জনতার মাঝে তীব্র ক্ষোভের অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। দোহাজারীবাসী মনে করছেন, এমপির এই ঘোষণা ও প্রস্তাব কেবল একটি সান্ত্বনূলক বক্তব্য ছাড়া আর কিছুই নয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেটিজেন ও ছাত্রনেতারা বলছেন, অতীতে ২০০০ সাল বা তারও পর থেকে দোহাজারীকে উপজেলা ও থানা হিসেবে পাওয়ার দাবিতে এই জনপদের মানুষ জেল-জুলুম ও নানা নিপীড়ন সহ্য করেছে। তৎকালীন সময়ে আন্দোলনের মুখে দোহাজারীকে উপজেলা করার প্রক্রিয়া যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখনো গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তা পণ্ড করা হয়েছিল। আজ দীর্ঘ বছর পর এসে বর্তমান সংসদ সদস্য কর্তৃক দোহাজারীর সেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আত্মত্যাগকে অস্বীকার করে ছয় ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে যুক্ত না করার চক্রান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় এবং দোহাজারীর জনগণকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালানোয় এলাকায় তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। যদিও পূর্বঘোষিত ৩ তারিখের মানববন্ধনটি স্থগিত বা তাৎক্ষণিকভাবে রূপ বদল করেছে, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতা এখন আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি হাতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দোহাজারীর সর্বস্তরের মানুষের সাফ কথা—যতক্ষণ পর্যন্ত ঐতিহাসিক দোহাজারীর নাম ও অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে একে পূর্ণাঙ্গ “দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা” বা কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক স্বীকৃতি দেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। দোহাজারীর নায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থেকে কঠোর কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।